মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরণের ‘সারপ্রাইজ’ দেওয়ার নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যদি পুনরায় সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে আরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে তেহরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন:
‘আমাদের শক্তিশালী ও দক্ষ সশস্ত্র বাহিনী যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রশংসিত এবং অহংকারের প্রতীক এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ যুদ্ধবিমান ইতিহাসে প্রথম ভূপাতিত করার গৌরব অর্জন করেছে, তা এখন বিশ্ব দরবারে প্রমাণিত।’
আব্বাস আরাগচি আরও যোগ করেন, সাম্প্রতিক মুখোমুখি সামরিক সংঘাত থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। যদি ওয়াশিংটন পুনরায় কোনো হঠকারী যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার মার্কিনদের জন্য এর চেয়েও অনেক বড় ‘সারপ্রাইজ’ বা চমক অপেক্ষা করছে।
নিজের এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি মার্কিন কংগ্রেসের নিজস্ব গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (CRS)–এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করেন।
তার দাবি, স্বয়ং মার্কিনদের ওই অফিসিয়াল প্রতিবেদনে চলমান যুদ্ধের সময় তেহরানের আঘাতে ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী:
গত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান বিরোধী একটি বড় ধরণের সামরিক অভিযান শুরু করে।
অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাল্টা হামলায় মার্কিন জোটের ড্রোনসহ অন্তত ৪২টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার টেবিলে আসার জন্য মাত্র ‘দুই থেকে তিন দিন’ সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনের সুর কিছুটা নরম করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বজায় থাকলেও, পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটে নাকি সংঘাত আরও নতুন রূপ নেয়।

