আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল:
বরিশালে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। এর ফলে বিভাগীয় শহরের প্রধান দুটি হাসপাতাল—শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ। অন্যদিকে জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তুলনামূলকভাবে রোগী কম ভর্তি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও অনেক অভিভাবক সরাসরি বরিশাল শহরের বড় হাসপাতালে চলে আসছেন। এর ফলে শেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে বিভাগীয় পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে হাম আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে খুব প্রয়োজন ছাড়া রোগীদের বিভাগীয় শহরে রেফার না করার তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা আরও বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার পর্যন্ত হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে মাত্র ৬৭ জন। এর মধ্যে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৯ জন। অথচ একই দিনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১২০ জন। এর আগের দিন রোববার ভর্তি হয়েছিল ১১৫ জন এবং শনিবার ১৩৩ জন।
অন্যদিকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। সোমবার সেখানে ৪৯ জন, রোববার ৩৭ জন এবং শনিবার ৫০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বারান্দাতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
একশ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে ৬৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৭ জন। সোমবার হাসপাতালের ইনডোরে মোট রোগী ছিল ১৮১ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে দ্বিতীয় তলার তিনটি বারান্দায়ও রোগীদের রাখতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ রোগীই শিশু। চরমোনাই এলাকার এক মা হালিমা জানান, তাঁর তিন বছরের সন্তানের প্রথমে জ্বর এবং পরে বমি শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। একইভাবে রুপাতলির ১৪ বছর বয়সী নূরনবীসহ আরও কয়েকজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে রোগী কম ভর্তি হওয়ার বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা এ কে এম মনিরুল ইসলাম বলেন, তাঁদের হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও অনেক রোগী সরাসরি শেবাচিম হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমি আক্তার জানান, হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে অনেক রোগী স্থানীয়ভাবে ভর্তি না হয়ে বরিশাল শহরের হাসপাতালে চলে যান।
বরিশালের সিভিল সার্জন মঞ্জুর ইলাহী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অপ্রয়োজনে হাম রোগীদের বিভাগীয় শহরে রেফার করা যাবে না। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

