সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলা থেকে বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সফেদ মিয়ার বাসায় প্রাণীটিকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
পরে বিষয়টি সাংবাদিক কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েলকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে লজ্জাবতী বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে,প্রাণীটি স্যানিটারি পাইপ বেয়ে ভবনের ওপরের তলায় উঠে আসে। পরে উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে লজ্জাবতী বানরের কোনো ভিন্ন প্রজাতি নেই। বাংলাদেশে এবং এ অঞ্চলে মূলত একটি প্রজাতির লজ্জাবতী বানরই দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন,লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গার মতো গভীর ও চিরহরিৎ বনাঞ্চল এ প্রাণীর প্রধান আবাসস্থল।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, লজ্জাবতী বানর নিশাচর ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী। এরা মূলত ফলমূল,গাছের কষ,ফুলের মধু,ছোট কীটপতঙ্গ ও পাখির ডিম খেয়ে বেঁচে থাকে। দিনের বেলায় এরা গাছের কোটর বা ঘন লতাপাতার আড়ালে কুণ্ডলী পাকিয়ে বিশ্রাম নেয় এবং সূর্যাস্তের পর খাদ্যের সন্ধানে বের হয়।
বিশ্বের একমাত্র বিষাক্ত প্রাইমেট হিসেবেও এদের পরিচিতি রয়েছে। এদের কনুইয়ের কাছে থাকা বিশেষ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস লালার সঙ্গে মিশে বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য,গত দুই দশকে বাংলাদেশে লজ্জাবতী বানরের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে প্রাণীটি বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় ‘বিপন্ন’ (Endangered) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। বনভূমি ধ্বংস ও নানা পরিবেশগত হুমকিই এদের অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

