সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় ফরেস্ট অফিসে হামলা করে এলাকার উত্তেজিত জনতা। এতে ৫ জন বনকর্মী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে)সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা এলাকার বাসিন্দা আকসেদ গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫) নামে এক কাঁকড়া শিকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হামলা চালিয়ে পাঁচজন বনকর্মীকে আহত করে এবং বিভিন্ন অসবাবপত্র ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধরা।
আহত ফরেস্টার হলেন শেখ মো. ফারুক আহমেদ (৫৫), বনরক্ষী মো. মেজবাউল ইসলাম (৪৫), ফায়জুর রহমান (৪০), আজাদুল ইসলাম (৪২) ও স্বেচ্ছাসেবক এখলাছুর রহমান (২৭)।তাদেরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হামলা,ভাংচুরের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও বিজিবির যৌর্থ প্রচেষ্টায় বিক্ষুব্দরা পিছু হটে। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের পাশাপাশি নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা এই কাজে অংশ নেন। যেহেতু ঘটনাস্থল থানা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় সেখানে বিজিবি শক্ত অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

জানাগেছে, নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের লে. কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালাক নুর হোসেনের নেতৃত্বে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। সেই সাথে এলাকার পরিস্থিত থমথমে বিরাজ করছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বিজিবির এই টহল কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, হামলার বিষয় আচ করতে পেরে তারা পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে আগেই অবহিত করেছিলেন। পরে বিজিবি, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, গুলিতে এক বনজীবী নিহতের ঘটনায় উপকুলীয় এলাকায় বসবাসরত বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়ে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, তিনদিন আগে বনবিভাগের পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকাযোগে তারা চারজন বনজীবী সুন্দরবনে যায় কাঁকড়া শিকারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোসটার ঝিলে এলাকায় (অভয়ারণ্য) নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। একপর্যায়ে সোমবার সকালে পাশ্ববর্তী টহলফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পিছন থেকে ডাক দেয় এবং টিমের সদস্যরা গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে মৃতদেহ নিয়ে এলাকায় ফিরে আসে সাথে থাকা অন্য বনজীবীরা।

