মোঃ তামজিদ হোসেন রুবেল, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমি রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা যেন কাগজেই সীমাবদ্ধ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে ফসলি জমি কাটার মহোৎসব।
প্রতিদিন গভীর রাত থেকে শুরু করে দিনের আলোতেও ২০ থেকে ৪০ ফুট গভীর করে খনন করে ট্রাক-ট্রলিযোগে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় একশ্রেণির মাটি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমি কেটে বিশাল গর্ত তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবাদি জমি এখন পরিণত হয়েছে ছোট ছোট পুকুরে। কৃষকরা বলছেন, কয়েকজন প্রভাবশালীর লাভের জন্য ধ্বংস করা হচ্ছে শত শত একর উর্বর জমি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, “ফসলি জমি কাটার বিষয়ে আমি কঠোরভাবে নিষেধ করেছি। কৃষিজমি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চালিয়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “ফসলি জমি কাটার বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন— দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এভাবে ফসলি জমি কাটা চললেও প্রশাসনের নজরে না আসা কতটা যৌক্তিক? আর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে যারা কৃষিজমি ধ্বংসের এ উৎসবে মেতে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

