রাজধানীর রামপুরায় এক ভয়াবহ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রঞ্জিতা কনা। ছিনতাইকারী তার কানের দুল ধরে হেঁচকা টান দেওয়ায় কান ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার কানে ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
গত রোববার (১৭ মে) রাতে এফডিসি থেকে বাসায় ফেরার পথে রামপুরা বাজার এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে রঞ্জিতা নিজেই এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘদিন পর এফডিসিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী রঞ্জিতা। সহশিল্পীদের সঙ্গে আনন্দ-আড্ডা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রামপুরার বাসায় ফিরছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফেসবুক ভিডিওতে রঞ্জিতা বলেন: “শিল্পী সমিতির নির্বাচন আমাদের কাছে সব সময় উৎসবমুখর। সেটা দেখার জন্যই আমি এফডিসিতে গিয়েছিলাম। রাতের দিকে বাসায় ফেরার সময় রামপুরা বাজার এলাকার একটি গলি দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ টের পাই কেউ আমাকে অনুসরণ করছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিনতাইকারী আচমকা আমার কানের দুল ধরে প্রচণ্ড জোরে টান দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠি। তখন দেখি আমার কান থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে এবং কানে দুলটি নেই। ছিনতাইকারী দুল ধরে টান দেওয়ায় আমার কানটা ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে।”
রক্তাক্ত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় রঞ্জিতা তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার জন্য শিল্পী সমিতির কয়েকজন সদস্যকে ফোন ও মেসেজ দেন। খবর পেয়ে তরুণ অভিনেতা জয় চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
গণমাধ্যমকে জয় চৌধুরী বলেন, “রাতে হঠাৎ রঞ্জিতা আপুর মোবাইল থেকে তিনটি মিসড কল ও একটি ‘জরুরি’ লেখা এসএমএস দেখি। পাল্টা ফোন দিয়ে ঘটনাটি শুনেই আমি দ্রুত ছুটে যাই। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও আপুর কান থেকে রক্ত পড়া থামছিল না। পরে চিকিৎসকেরা তার কানে সাতটি সেলাই দেন।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কান ছিঁড়ে যাওয়ার ক্ষতের পাশাপাশি রঞ্জিতা আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত (হাই প্রেশার) সমস্যায় ভুগছিলেন। এই আকস্মিক ট্রমা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা এখনো কিছুটা দুর্বল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে বাসায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জয় চৌধুরী।
এই ঘটনায় এখনো রামপুরা থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা না হলেও, সুস্থ হয়েই অভিনেত্রী আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।

