অ আ আবীর আকাশ,
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প”-এর বাস্তবায়িত কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মতবিনিময় কর্মশালা লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক জেলে, মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগ, কুমিল্লার পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক অজিত কুমার পাল এবং মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগ, কুমিল্লার উপ-পরিচালক শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সামগ্রিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হক সেতু। এছাড়া কর্মশালার মূল উপস্থাপনা করেন রায়পুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুল হাসনাইন।
কর্মশালায় লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার শতাধিক জেলে অংশ নেন। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা আলোচনায় ইলিশ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য আহরণ, অবৈধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, নদীর নাব্যতা সংকট, জেলেদের আইন অমান্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর এর প্রভাবসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। জেলেরা তাদের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং ইলিশ আহরণে বিদ্যমান সংকট সম্পর্কে মতামত দেন।
প্রধান অতিথি পরিচালক আনোয়ার হোসেন জেলেদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় জেলে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা এবং অবৈধ জালের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
কর্মশালায় বক্তারা ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদী রক্ষা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জেলেদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। অংশগ্রহণকারী জেলেরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

