সত্যজিৎ দাস:
মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় নিজের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোছাব্বির আল মাসুদ। তিনি দাবি করেছেন,মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের একটি চক্র তার ব্যবসা, জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।
রোববার (১৭ মে) শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের আয়োজনে শহরের মৌলভীবাজার রোডস্থ গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছাব্বির আল মাসুদ বলেন,দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরব থাকায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি চক্র তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি,ব্যবসায়িক হয়রানি এবং পরিকল্পিত হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন,সম্প্রতি পরিবহন ব্যবসা শুরু করার পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার নিয়ন্ত্রণাধীন গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় শুরু করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচারের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরির চেষ্টা করা হয়। এর পেছনে হত্যার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তার আশঙ্কা।
মোছাব্বির আরও বলেন,গত ১৮ এপ্রিল ‘সিলেটের নিউজ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ও আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে লোক নিয়োগের অভিযোগসংবলিত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সন্দেহজনক তথ্য পান বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান,গত ৬ মে রাতে সিলেটগামী একটি লেবুর গাড়ি আটকে তার কর্মচারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটে। একইভাবে লেবু বাজার ও পরিবহন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি এবং ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোছাব্বির আল মাসুদের দাবি,তার বিরুদ্ধে এসব তৎপরতার পেছনে মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ সক্রিয় রয়েছে। মূল ব্যবসায় ফিরতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন,“মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ,সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।”
সংবাদ সম্মেলনে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী,বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ।

