সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের খামারগুলোতে এখন চলছে ব্যস্ততম সময়। জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে দিনরাত চলছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিচর্যা। দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করে কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বড় আকারের অসংখ্য পশু। শেষ মুহূর্তে বিক্রি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও খামারিরা আশাবাদী—স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও যাবে দিনাজপুরের পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি, মহিষ ২৪৮টি, ছাগল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি, ভেড়া ১৩ হাজার ৭২৯টি এবং অন্যান্য প্রাণি রয়েছে ১০টি।
জেলায় কুরবানির সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি পশু। সে হিসেবে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬১টি পশু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও খামারিরা আশা করছেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
দিনাজপুর শহরের আনোয়ার এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ম্যানেজার মিন্টু মিয়া জানান, এ বছর তাদের খামারে কুরবানির জন্য প্রায় ৩০টি দেশীয় গরু ও ২৫টি মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দেশীয় খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে পশুগুলো সুস্থ ও আকর্ষণীয়ভাবে বেড়ে উঠেছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করেছি।
খামারের পরিচর্যাকারী আব্দুর রহমান বলেন, আমরা গরু ও মহিষসহ প্রায় ৫৫টি পশু প্রস্তুত করেছি। প্রতিটি পশুকে কাঁচা ঘাস, ধানের কুড়া, ভুষি, ফিড ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়েছে। নিয়মিত গোসল ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করায় পশুগুলো স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বেড়ে উঠেছে।
আরেক পরিচর্যাকারী সাব্বির হোসেন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। অনেকেই খামারে এসে পশু দেখে যাচ্ছেন, কেউ কেউ আগাম বুকিংও দিচ্ছেন। কুরবানির আগের দিন পর্যন্ত আমাদের ব্যস্ততা থাকবে।
খামারে আব্দুল কাদের জানান, এ বছর গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে কুরবানির হাটে পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ব্যক্তি পর্যায়ে পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ষাঁড়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১টি। এছাড়া বলদ রয়েছে ১৫ হাজার ৯৪৪টি এবং গাভী রয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪১টি।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, “জেলায় ২১টি স্থায়ী ও ৪৭টি অস্থায়ী পশুর হাটসহ মোট ৬৮টি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে ৩৮টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। এছাড়া ১৩টি উপজেলায় পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা খামারিদের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, নিরাপদ মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে খামারিদের খড়, কাঁচা ঘাস, গমের ভুষি, খৈল, চিটাগুড় ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনোভাবেই এন্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরের দেশের কোনো গবাদিপশু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

