দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-এর ভিসিবিরোধী আন্দোলনে বহিরাগতদের হামলা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা কৃষকদলের নেতা মো. মর্তুজা বিল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামে আবাসন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পবিপ্রবিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সময় কয়েকজন সিনিয়র অধ্যাপকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দুমকিতে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ছিলেন মর্তুজা মোল্লা। ওই মামলাকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অজ্ঞাতনামা আসামি করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে গ্রেফতার হওয়া মর্তুজা বিল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফাইড আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। একই সঙ্গে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলাকে কেন্দ্র করে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গত সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো: মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওসি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া মর্তুজা বিল্লাহ মামলার ১৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত বুধবার উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের ৯ জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

