সদরপুর উপজেলা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ের প্রবাহমান ‘সদরপুর খাল’ এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। দখল দূষনে খালটি পরিত্যাক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারের বর্তমান খাল খনন কর্মসূচির অগ্রাধিকার তালিকায় নেই ঐতিহাসিক এই খালটি।
উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন এই প্রবাহমান খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে চলে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, মাটি ভরাট ও লাগামহীন বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি এখন মানচিত্র থেকে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, খালটি উদ্ধার ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর ভুবনেশ্বর নদ থেকে উৎপত্তি হয়ে সদরপুর স্টেডিয়াম ও বাজার ঘেঁষে দক্ষিণে বয়ে গেছে এই খাল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সদরপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন খালের একটি বড় অংশ ভরাট করে সিএনজি স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। খালের উৎসমুখে একটি ইটভাটা স্থাপনের ফলে ভুবনেশ্বর নদের সাথে সংযোগটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। এছাড়া খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। বাজারের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলায় তলদেশ ভরাট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যা স্থানীয় কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়রা বলেন, “একসময় এই খাল দিয়ে বড় বড় পণ্যবাহী নৌকা চলত। এই খালকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল সাড়ে সাতরশি বাজার,ডাক্টার,বাজার,সহ অনেক ছোট ছোট হাট বাজার। এখন ময়লা আর আগাছায় খালের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া দায়। স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান বলেন, “এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খনন শুরু করলে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজামান বদু বলেন, “জননেতা তারেক রহমান দেশজুড়ে খাল খননের নির্দেশ দিয়েছেন। সদরপুর ভুবনেশ্বর নদী থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত মাত্র ২০০ মিটার খনন করলেই খালের প্রাণ ফিরে আসবে। প্রয়োজনে এখানে বড় কালভার্ট নির্মাণ করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এটি উদ্ধার হলে এলাকার কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বেগম জানান, উপজেলার সকল খাল পর্যায়ক্রমে খননের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যে খালগুলো নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই এবং খনন কাজে স্থানীয়দের বাধা আসার সম্ভাবনা কম, সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ শাওন বলেন, “নদী, খাল, বিল ও হাওর-বাঁওড় নিয়েই আমাদের ইকো-সিস্টেম। এগুলো বিলুপ্ত করে কখনোই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার জলাশয় সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। সদরপুর খালটি দখলমুক্ত ও খনন করতে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।

