ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই পশুটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হবে।
পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করা যাবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ খোলা জায়গায় পশু জবাই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নিয়ম বাস্তবায়নে পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। পরিদর্শন কাজে বাধা দিলেও তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের দ্রুত নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

