সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১২ মে) রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওর পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,মৌলভীবাজারের উপপরিচালক। এ সময় হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে যাচাই করা হয়।
জেলা প্রশাসক হাওরপারের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান দুর্ভোগ,ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি কৃষকদের কাছ থেকে পানি বৃদ্ধির কারণ,ফসল রক্ষায় সম্ভাব্য করণীয় এবং ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিষয়ে মতামতও শোনেন।
এ সময় তৌহিদুজ্জামান পাভেল বুধবার (১৩ মে) বলেন,“সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো কৃষকের নাম তালিকায় বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আমরা চাই,একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।”
তিনি আরও বলেন,“হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
পরে জেলা প্রশাসক কাউয়াদিঘি হাওরের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম সচল রাখতে পরিচালিত কাশেমপুর পাম্প হাউজ পরিদর্শন করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেন।
এরপর তিনি রাজনগর উপজেলা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত দুইজন মৎস্যজীবীর মাঝে মাছের খাবার বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

