কুমিল্লায় পেশাদার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রর ওপর দীর্ঘ এক দশকের ধারাবাহিক নির্যাতনের পর এবার খাবারের সাথে চেতনা নাশক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (১২ মে) খাবারের সাথে চেতনানাশক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তাকে ক্ষতি করার চেষ্টা চালায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও আদালতের নথিপত্র (জিআর ৮৫০/২৪, জিআর ৮১২/২৫ এবং সিআর ৫১৫/২৬) অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে মওদুদ আব্দুল্লাহর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাদের অপরাধের ধরনে রয়েছে।
ভুয়া পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং মিথ্যা ওয়ারেন্ট বানিয়ে হেনস্তা। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে কুরুচিপূর্ণ ছবি ছড়িয়ে সামাজিক সম্মানহানি। গত ৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রাণঘাতী হামলার পর ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি।
সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় আসামিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ বিষয়টি আমলে নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একাধিক স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে বা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শুভ্র। এমতাবস্থায় নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি বরাবর বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি এই অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সেলিম মিয়া জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা এবং সচেতন সমাজ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন—পেশাদার সাংবাদিকই যদি অনিরাপদ থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

