সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে আবারও বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক সাবিনা আক্তার। স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ড থেকে টানা চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
গত শনিবার (৯ মে) ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়,অ্যাসপায়ার পার্টির প্রার্থী সাবিনা আক্তার ১ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তার এ বিজয়কে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (১২ মে) সাবিনা আক্তার বলেন,“এই বিজয় শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়,এটি পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি এবং আগামীতেও স্বাস্থ্যসেবা,প্রবীণদের কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন,“স্টেপনি গ্রিনের বাসিন্দারা বারবার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন,তা আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। মানুষের এই বিশ্বাস আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলেছে।”
সাবিনা আক্তার এর আগে ২০১৭ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী স্পিকার নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তিনি স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কাউন্সিলের স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবাবিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা গেছে,সাবিনা আক্তারের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের মাধবপুর ওসমানপুর গ্রামে। তিনি সমাজসেবক ফারুক উদ্দিন সুন্দরের কন্যা।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন তিনি লেবার পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় দুই দশক দলটির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রুপের ডেপুটি লিডারের দায়িত্বও পালন করেন। তবে ২০২৪ সালের জুনে দলীয় নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তিনি লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করে অ্যাসপায়ার পার্টিতে যোগ দেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন সাবিনা আক্তার। বিশেষ করে প্রবীণদের সামাজিক সেবা,একাকীত্ব দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে তার ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত। এছাড়া নিজ জন্মভূমি কুলাউড়া ও বরমচাল এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন।
টানা চতুর্থবারের এই বিজয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, সাবিনা আক্তারের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি তরুণদের রাজনীতি ও জনসেবায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

