দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে ভিন্নধর্মী একটি আলোচনা দেখা গেছে। কিছু পোস্টে লোডশেডিংয়ের সম্ভাব্য “উপকারিতা” তুলে ধরা হলে তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা শুরু হয়।
প্রচলিত দৃষ্টিকোণে লোডশেডিংকে জনদুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা হলেও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু বক্তব্যে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় কিছু ইতিবাচক অভ্যাস ও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এসব আলোচনায় উল্লেখ করা হয়—লোডশেডিং হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কমে আসায় তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ বিল কম হতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভরতা কিছুটা কমে পরিবার ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়।
আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ও টেলিভিশনের ব্যবহার কমে গেলে ঘুমের সময়সূচি কিছুটা নিয়মিত হতে পারে। একইসঙ্গে বাসার ভেতরে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ব্যবহার কিংবা ইনডোর গেমের মাধ্যমে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ার সুযোগও তৈরি হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব “ইতিবাচক দিক” মূল সমস্যার বিকল্প নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম বা ঘাটতির কারণে জনজীবন, শিল্প উৎপাদন ও শিক্ষাক্ষেত্রে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
তারা আরও বলেন, লোডশেডিংয়ের প্রকৃত সমাধান হলো টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কোনো পরিস্থিতিগত সুবিধা নয়।
এদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে এমন আলোচনা হাস্যরস হিসেবে গ্রহণ করলেও বাস্তবে লোডশেডিং এখনো দৈনন্দিন জীবনের বড় এক ভোগান্তির নাম।

