সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক,নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ-জীবন রক্ষায় প্রয়োজন নার্সদের ক্ষমতায়ন”।
শ্রীমঙ্গল হাসপাতালের নার্সিং বিভাগ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যৌথ আয়োজনে সকাল ৯টায় হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে নার্সরা তাদের স্বকীয় পোশাকে সজ্জিত হয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। পরে হাসপাতাল মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন।
তিনি বলেন,রোগীদের সেবায় নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ ও মানবিক নার্সিং সেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের প্রশিক্ষণ,নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নার্সদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. অশোক ঘোষ ও সহকারী সার্জন ডা. সম্রাট কিশোর পোদ্দার। ডা. অশোক ঘোষ বলেন,একজন রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্সদের আন্তরিক সেবাই সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় নার্সদের মধ্যে বক্তব্য দেন; শিরিন আক্তার,রোজিনা বেগম,কণিকা দেবনাথ,রুবিনা বেগম,বাবলী ভট্টাচার্য্য ও হাছিনা আক্তার। শিরিন আক্তার বলেন,রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নার্সরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাবলী ভট্টাচার্য্য বলেন,নার্সিং শুধু একটি পেশা নয়,এটি মানবসেবার অন্যতম মহৎ মাধ্যম। রোগীদের পাশে থেকে তাদের মানসিক সাহস জোগানোও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত নার্সদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আধুনিক নার্সিংয়ের পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের অবদান স্মরণ করে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটির আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালন করে আসছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল,স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে।

