নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে নিজের চেহারা ও সৌন্দর্য নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছে। তবে মেকআপের কোনো নির্দিষ্ট আবিষ্কারকের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, মেকআপের ইতিহাস শুরু হয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার অব্দে প্রাচীন মিশরে।
সে সময় নারী-পুরুষ উভয়েই সৌন্দর্য, সামাজিক মর্যাদা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে মেকআপ ব্যবহার করতেন। প্রাচীন মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা এর কাজলঘেরা চোখ ও সবুজ ম্যালাকাইট আইশ্যাডো আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত সৌন্দর্যচর্চার উদাহরণ।
মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন, মেকআপ দেবতাদের সন্তুষ্ট করে এবং অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। কোহল দিয়ে তৈরি ঘনকালো কাজল শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং মরুভূমির তীব্র রোদ ও চোখের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্যও ব্যবহার করা হতো।
এছাড়া ত্বক উজ্জ্বল করতে সাদা পাউডার, ঠোঁট রাঙাতে লাল ওখার গুঁড়ো ও চর্বি মিশিয়ে তৈরি লিপস্টিক ব্যবহার করা হতো। আরও উজ্জ্বল লাল রঙ আনতে অনেক সময় কারমাইন বিটল নামের এক ধরনের পোকাও গুঁড়ো করে ব্যবহার করা হতো।
সুতরাং নারীর অন্যতম প্রিয় জিনিস হচ্ছে মেকআপ। নিজেকে সুন্দর দেখালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কোন মেকআপ কার জন্য কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদও। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি? নিজেকে আরও সুন্দর করে তুলতে বাইরের কৃত্রিম জিনিসের ব্যবহার কীভাবে শুরু হলো? মেকআপের ইতিহাস আসলে বেশ চমকপ্রদ।
তৎকালীন মিশরে মেকআপ ছিল সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদের প্রতীক। কে কত দামি পাত্রে প্রসাধনী রাখছেন কিংবা কী ধরনের অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করছেন, সেটিও ধনসম্পদের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হতো।
শুধু রূপচর্চাই নয়, ত্বকের যত্নেও প্রাচীন মিশরীয়রা ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। তারা ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল ও তিলের তেল ব্যবহার করতেন শুষ্ক আবহাওয়া থেকে ত্বক রক্ষায়। পাশাপাশি মধু দিয়ে ফেসমাস্ক এবং দুধ দিয়ে স্নানের প্রচলনও ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্কিন কেয়ার ও বিউটি ট্রেন্ডের অনেক ধারণার শিকড়ই লুকিয়ে আছে প্রাচীন মিশরের সেই সৌন্দর্যচর্চায়।


