নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার গদারচর মৌজায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, দোকানপাট ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনসার আলী গং জানান, গদারচর মৌজার এসএ খতিয়ান নং-২৭৯ (সাবেক ৮৭/১), আরএস খতিয়ান নং-৪৯৯, দাগ নং-১২১ এর আওতাধীন মোট ২১ শতাংশ জমির মধ্যে ১৪ শতাংশ জমি তাদের পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি। সিএস খতিয়ান অনুযায়ী তাদের পূর্বপুরুষ মকসুদ আলী গং ও পিতা ইমা গাজীর নামে জমির মালিকানা রয়েছে। এছাড়া ক্ষতি নিষ্পত্তির দলিল নং-১১০৮ এর মাধ্যমে ওয়ারিশসূত্রে তারা জমির মালিক বলে দাবি করেন।
তারা আরও জানান, ১৯৭০ সালে তাদের পূর্বপুরুষ রহম আলী গং বড় নওপাড়া মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৩৭৪ ও এসএ খতিয়ান নং-৮৯৫ এর ২৭ শতাংশ জমি ১১০৭ নং দলিলের মাধ্যমে মুখলেছুর রহমান ভুঁইয়ার কাছে বিক্রি করেন। ওই জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকে তারা আর কখনো সে সম্পত্তির ওপর দাবি করেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ মে দুপুরে মুখলেছুর রহমান ভুঁইয়ার ছেলে মিনহাজুর রহমান রাজু ভুঁইয়া প্রশাসনের সহায়তায় ছোট গদারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের দখলে থাকা জমিতে অভিযান চালান। এ সময় সেখানে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করা হয় এবং মালামাল লুটপাট করা হয় বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উচ্ছেদের আগে কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়নি। বারবার নোটিশ দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের প্রশ্ন, “কেবল খতিয়ান বা নিষ্পত্তির দলিলে নাম থাকলেই কি কোনো ব্যক্তি জোরপূর্বক জমি দখল করতে পারে? পূর্ব নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ ও ভাঙচুর কোন আইনে বৈধ?”
এসময় মিনহাজুর রহমান রাজু ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ তোলা হয়। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোগদখলীয় জমি ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

