অনেক সময় শরীরের ছোটখাটো শারীরিক পরিবর্তনকে আমরা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে চলি। কিন্তু এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই বেড়ে যায়। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ও ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ৫টি বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে একদমই দেরি করা উচিত নয়।
১. অকারণে ওজন কমে যাওয়া
কোনো ডায়েট বা শরীরচর্চা ছাড়াই যদি হঠাৎ করে শরীর শুকিয়ে যেতে থাকে, তবে তা চিন্তার কারণ। বিশেষ করে ছয় মাসে যদি ৫ কেজি বা তার বেশি ওজন কমে যায়, তবে তা পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয় বা ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

২. দীর্ঘমেয়াদি ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি
পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও যদি শরীর সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে, তবে তা অবহেলা করবেন না। রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে শরীর এমন তীব্রভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কোষের ভেতর ক্যান্সার বাড়তে থাকলে শরীর তার সমস্ত শক্তি ব্যয় করে ফেলে, ফলে এই অবসাদ দেখা দেয়।
৩. চামড়ায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন
ত্বকে নতুন কোনো তিল হওয়া, পুরোনো তিলের রঙ বা আকার বদলে যাওয়া কিংবা ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ক্ষত বা রুক্ষতা দেখা দিলে সতর্ক হোন। ত্বকের ক্যান্সার বা মেলানোমা প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ তিল বা আঁচিলের মতোই মনে হতে পারে।

৪. অস্বাভাবিক রক্তপাত
শরীরের যেকোনো অংশ থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত ক্যান্সারের একটি বড় লক্ষণ। যেমন:
মল বা প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসা (কোলন বা মূত্রাশয়ের ক্যান্সার)।
কাশির সাথে রক্ত বের হওয়া (ফুসফুসের ক্যান্সার)।
নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব ছাড়াই রক্তপাত (জরায়ু বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার)।
৫. গিলতে অসুবিধা বা দীর্ঘস্থায়ী কাশি
যদি খাবার গিলতে কষ্ট হয় অথবা গলায় কিছু আটকে আছে বলে মনে হয়, তবে তা খাদ্যনালী বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি বা গলার স্বরে পরিবর্তন আসা ফুসফুস কিংবা থাইরয়েড ক্যান্সারের সংকেত দিতে পারে।
এই লক্ষণগুলো মানেই যে ক্যান্সার, তা নয়। তবে শরীরে এমন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

