হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সর্বশেষ সংঘর্ষের সূত্রপাত কে করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে শুক্রবার (৮ মে) এক প্রতিবেদনে জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকাতেও বিমান হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। এর জবাবে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেয় মার্কিন বাহিনী। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান আজ আমাদের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছে।”
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে এবং একে শত্রুপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা বলে উল্লেখ করে। একই সময়ে রাজধানী তেহরান-এও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পরবর্তীতে ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় বন্দর খামির, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক জাহাজের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালায়। পরে হামলার উৎস হিসেবে চিহ্নিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারে পাল্টা আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত চুক্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই উত্তেজনার মাত্র একদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব তারা বিবেচনা করছে। এদিকে সর্বশেষ সংঘর্ষে ইসরায়েল-এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি গণমাধ্যমকে।

