তৌহিদুর রহমান, ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:
ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে পড়ছে শেরপুরের গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ। নির্বিচারে গাছ কাটা, অবৈধ কাঠ পাচার এবং বন বিভাগের উদাসীনতায় হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের সবুজ বনাঞ্চলের অস্তিত্ব। এতে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে কাঠ পাচারকারী চক্র ও প্রভাবশালী মহল। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলাতেও অবাধে কাঠ পাচার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে বনের ঘনত্ব এবং ধ্বংস হচ্ছে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল।
স্থানীয়রা জানান, বন উজাড়ের কারণে হাতি, হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন বিভাগের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না কোনো প্রতিকার। অনেক ক্ষেত্রে বন উজাড়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এভাবে বন ধ্বংস চলতে থাকলে গারো পাহাড় তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য হারাবে। দীর্ঘমেয়াদে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়। তারা বন বিভাগের কঠোর নজরদারি, অবৈধ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বন সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “গাছ কাটার ফলে গজনী অবকাশ এলাকায় পাখির আনাগোনা কমে যাচ্ছে। নিরাপদ আবাসস্থল না পেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি অন্যত্র চলে যাচ্ছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ ও নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা না হলে ভবিষ্যতে এ এলাকা থেকে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যেতে পারে।”
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গজনী অবকাশ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ এবং পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধ বন নিধন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

