টানা দুইদিনের পতনের পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.০৫ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) অপরিশোধিত তেলের দামও ০.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৮৪ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করে জানান, দেশটি যদি একটি প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে।
সেদিন এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দামও প্রায় ১২ শতাংশ কমে ৮৯ ডলারের কাছাকাছি অবস্থানে চলে যায়।
তবে পরিস্থিতি আবারও বদলে যায়, যখন ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে রাজি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এই মন্তব্যের পর বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
এর আগে ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২২ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বড় শক্তিগুলোর সম্ভাব্য বৈঠক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। সান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আসন্ন শীর্ষ বৈঠক পর্যন্ত বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকার সম্ভাবনা বেশি।

