পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর যখন নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে, তখন টলিউড মহলে বইছে নানা আলোচনার হাওয়া। এর মধ্যেই টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ খ্যাত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে একটি রাজনৈতিক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
হাওড়া শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এই জয়ের পর ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিজে রুদ্রনীলকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই প্রসেনজিতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন প্রসেনজিৎ। সেখানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান:
তিনি নিজে রুদ্রনীলকে ফোন করেননি; বরং রুদ্রনীলই তাঁকে ফোন করেছিলেন। প্রসেনজিৎ লিখেছেন, “আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই (রুদ্রনীল) ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেটুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।”
দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এই অভিনেতা আরও যোগ করেন:
“আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামী দিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সবার কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ—দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রং লাগাবেন না।”
রুদ্রনীল ঘোষ একসময় বামপন্থী এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের সাথে যুক্ত থাকলেও পরে বিজেপিতে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর জয় টলিউডের অন্দরেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রসেনজিতের মতো ব্যক্তিত্বকে এই জয়ের সাথে রাজনৈতিকভাবে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টাটি তাঁর ভক্ত ও অনুরাগী মহলে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টলিউড তারকাদের অংশগ্রহণ এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো যারা কেবল শিল্পকেই প্রাধান্য দিতে চান, তাঁদের ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধকে রাজনৈতিক ফ্রেমবন্দি করা অনাকাঙ্ক্ষিত।

