জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত এক যুবকের পরিচয় ঘটনার তিন দিন পর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত আহত অবস্থার ছবি দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।
সোমবার সকালে নিহতের স্ত্রী পালং মডেল থানায় এসে তাকে নিজের স্বামী হিসেবে দাবি করেন। পরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে পুলিশ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, নিহত দবির মুনশি (৪০) জাজিরা উপজেলার মুনশিকান্দি এলাকার বাসিন্দা। তিনি আর্শেদ আলি মুনশির ছেলে এবং তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
পুলিশ জানায়, বর্তমানে নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিঙ্গাইরা এলাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান চুরির সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে কামাল চৌকিদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে তাকে শনাক্ত করেন।
নিহতের ভাতিজা শিহাব হোসেন সজিব বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে তিনি তার চাচাকে শনাক্ত করেন। তার দাবি, নিহত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ ও ভবঘুরে ছিলেন এবং নিয়মিত বাড়ির বাইরে থাকতেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, ভ্যান চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করার পর উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

