আব্দুস সালাম মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আদালতের স্থিতাবস্থা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর চূড়ান্ত আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক চক্রের বিরুদ্ধে। মালিকানা প্রমাণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গায়ের জোরে জমি দখলের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত রাজিব মাহমুদের স্ত্রী পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকায় প্রভাবে থানা পুলিশ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ও২৯ মার্চ সকালে চরভদ্রাসন সদরের খান মামুদের ডাঙ্গী এলাকায় বিবাদী রাজিব মাহমুদ ও তার সহযোগীরা প্রায় ৩৫-৪০ জন ভাড়াটে লোক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মেহদী হাসানের ক্রয়কৃত ভিটে জমিতে অতর্কিত লাঠিসোটা ভয় ভীতি প্রদর্শন করে ঘরতুলেন । সেখানে জোরপূর্বক ইটের দেয়াল নির্মাণ শুরু করলে ভুক্তভোগী মেহদী হাসান তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরবর্তীতে সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়েও রাজিব মাহমুদ স্ত্রীর’পুলিশ হেডকোয়ার্টার পুলিশের চাকুরির সুবাদে কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বর্তমানে দুটি মামলা বিচারাধীন। যার একটির শুনানি আগামী ৩০ মার্চ (এডিসি রাজস্ব বরাবর রিভিউ) এবং অন্যটি আগামী মাসের ৬ তারিখ (রেকর্ড সংশোধন মামলা)।
গত ২৮ মার্চ এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, “কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং পুনরায় কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একই দিবাগত রাতে সংবাদকর্মীদের একটি দল থানায় গেলে ওসি অসুস্থতার কথা জানিয়ে দায়িত্বরত এসআই গোলাম হোসেনের সাথে কথা বলতে বলেন। এসআই গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই বাদীকে আশ্বস্ত করেন যে, বিবাদী পক্ষ আর কাজ করতে পারবে না। কিন্তু পরদিন ২৯ মার্চ সকালে চিত্র পাল্টে যায়। বিবাদী রাজিব মাহমুদ পুনরায় প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র লোক নিয়ে মেহদী হাসানের জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী পুনরায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না বলে মেহেদী হাসান বলেন-“স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওসিকে বিষয়টি জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সহায়তা পাইনি বলে দাবী করছে। অভিযুক্তের স্ত্রী পুলিশ সদর দপ্তরে এসআই পদে কর্মরত থাকায় পুলিশের নিরপেক্ষতা প্রশ্ন তুলেছে।
পুনরায় নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল। এসি ল্যান্ড তদন্তে সেই জালিয়াতি ধরে ফেলেন এবং তাদের মিউটেশন বাতিল করেন।
আদালতের ১৪৪ ধারা: দেওয়ানি আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশে স্পষ্টভাবে বাদীপক্ষের সরাসরি দখলের (Physical Possession) কথা উল্লেখ রয়েছে। মূল রেকর্ডে প্রতিপক্ষের পূর্বপুরুষের কোনো নাম নেই, যা তাদের রিভিশন আবেদনকে আইনত দুর্বল করে তুলেছে।
বর্তমানে জমিটি সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক ও শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে থাকলেও প্রতিপক্ষের পেশিশক্তির মহড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। প্রশাসনের নাম প্রকাশ না করার শর্তেএক কর্মকর্তা জানান, মেহেদী হাসান বেশি শক্তির কাছে দুর্বল। মেহেদী হাসানের কাগজপত্র আইনগত প্রক্রিয়া ঠিক আছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান মোল্লা এ প্রতিবেদক কে বলেনএর আগে ১৭মেশুক্রবার চরভদ্রাসন থানায় গোল করে আমার সভাপতিত্ব শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনিআরওজানান,২৪শে মে শুক্রবার শালিশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করি খান মাহমুদের ডাঙ্গী এই সালিশে বৈঠকে কৃষ্ণপুরের ইসরাত মুন্সী,, খান মাহমুদের ডাঙ্গির রফিক হোসেন, চর বিষ্ণুপুর আলম মহুরী, চরভদ্রাসনের উপজেলা বিএনপির প্রস্তুত কমিটির সদস্য মনজুরুল হক মৃধা, যুবদলের সভাপতি মোজাফফর হোসেন জাফর, ফরিদপুরের অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা, গজারিয়া বাজারে আমজাদ ভূইয়াএলাকার বিপুল সংখ্যক লোক উপস্থিত ছিল।
সালিশ বৈঠকরা নিরপেক্ষভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এবং মীমাংসারশর্তে উভয় পক্ষের সম্মতিতে পরবর্তী ১লা মে শুক্রবার মীমাংসার জন্য নির্ধারণ করা হয়। শালিশ বৈঠকে মীমাংসারপূবেই মেহেদী হাসানের রোপন কৃত বিভিন্ন ধরনের গাছ কর্তন করে ক্রাশ সৃষ্টি করে রাজিব মাহমুদের লোকজন।
এলাকাবাসীরওভুক্তভোগী প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী।

