নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলাদেশে আমকে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়। গরমকাল এলেই বাজারে আমের ভিড় এবং খাওয়াদাওয়ার টেবিলে এর উপস্থিতি বাড়ে। তবে অনেকেরই ধারণা, বেশি আম খেলে শরীর গরম হয়ে যায়—এই বিশ্বাস নিয়ে প্রতি বছরই আলোচনা দেখা যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারকে ‘গরম’ বা ‘ঠান্ডা’ হিসেবে ভাগ করার ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং খাবারের পুষ্টিগুণ ও উপাদান বিশ্লেষণ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আমে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও কিছু বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান হজমের সময় সামান্য তাপ উৎপন্ন করতে পারে। তবে এটি শরীরের মূল তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তারা আরও বলেন, পরিমাণের ওপর নির্ভর করে আম খাওয়ার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত আম খেলে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এতে থাকা উচ্চ ক্যালোরি ও চিনি রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ত্বকের সংবেদনশীলতা থাকা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমের খোসার কাছাকাছি থাকা উপাদান অস্বস্তি বা চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় শরীর গরম লাগার অনুভূতির পেছনে শুধু আম নয়, বরং আবহাওয়া, পানিশূন্যতা এবং খাদ্যাভ্যাসও ভূমিকা রাখে।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম স্বাস্থ্যকর ফল হলেও তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী।

