সাকলাইন যোবায়ের, কুমিল্লা
কুমিল্লায় পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তারা এখনো পলাতক রয়েছে। একের পর এক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের দৌরাত্ম্য থামছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধারাবাহিকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বাদী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, তাঁর দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪)-এ নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না করা এবং সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১।
তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আসামিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মামলার সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, অপহরণের চেষ্টা, চাঁদা দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সম্মানহানি, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের চেষ্টা, অস্ত্রসহ হামলা, বাসার সামনে কাফনের কাপড় রেখে হুমকি, গোপন ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা এবং মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করে নজরদারির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, “জি আর মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্নভাবে আমাকে পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে আমার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
এ ছাড়া দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (এফআইআর-৫১, জি আর-৮১২; তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫)-তেও আসামিরা পলাতক রয়েছে এবং এখনো কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। দুটি মামলাই আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হওয়ায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, সাম্প্রতিক একটি সি আর মামলা (নং-৬১৫/২৬, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬) কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১-এ রেকর্ড হয়েছে।
দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৬৫/৪২০/৫১১/৫০০/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, তিনি বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারেও লিখিত অভিযোগ করেছেন। আইজিপির অভিযোগ সেল থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
পরবর্তীতে ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার, কুমিল্লা নির্দেশনা গ্রহণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আনোয়ার বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে আমরা বাদীর বাসায় গিয়েছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই মামলার পাশাপাশি উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”
বাদীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসামিরা আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ পুরো অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

