সত্যজিৎ দাস:
সিলেট বিভাগে হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে একজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৮১ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৩২ জন ও হবিগঞ্জে ৭ জন আক্রান্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত।
চলতি বছরে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ এলাকার ৮ মাস বয়সী তাহা এবং অপরজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাদিপুর এলাকার ১ বছর ৬ মাস বয়সী ওয়াজিহা আক্তার। তারা দুজনই ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
একই সময়ে নতুন করে ৩৮ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য হাসপাতালেও রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বর্তমানে বিভাগজুড়ে মোট ১৭২ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বাধিক ৯৩ জন ভর্তি আছেন। মৌলভীবাজারসহ অন্যান্য জেলার হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী; সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে,দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এখন “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,২০২৪-২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং পর্যাপ্ত টিকাদানের ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

