শাহরিয়ার কবির, খুলনা
খুলনার পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ১৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ জন শিক্ষক। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পাঠদান ব্যাহত হয়ে প্রায় ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণিত, বাংলা, উচ্চতর গণিত, ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, রসায়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষক নেই। পদার্থবিজ্ঞানেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকাংশ শূন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে অবসরের পর, তবে দীর্ঘদিনেও নতুন নিয়োগ না হওয়ায় সংকট বাড়ছে।
বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, একজন ব্যবসায় শিক্ষা শিক্ষক এবং কয়েকজন সিনিয়র ও সহকারী শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে পাঠদান চালানো হচ্ছে। ফলে একাধিক শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোও দুর্বল। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। নেই অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া। বর্তমানে আংশিকভাবে ভাড়াটিয়া কর্মচারীর মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। অভিভাবকরাও এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন অভিভাবক মো. আব্দুল হালিম বলেন, “এভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের সন্তানরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আবু হানিফ সোহেল বলেন, দ্রুত শিক্ষক সংকট সমাধান না হলে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘদিন এভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। তিনি দ্রুত শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিজ্জামান চৌধুরী জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

