শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী সংবাদদাতা:
নোয়াখালী জেলা শহর পৌরসভায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার সম্পদ দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ পরবর্তী সময়ে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড পুর্ব মহুদুরী এলাকায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার নিজস্ব সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছে। সম্প্রতি তারা মাদ্রাসার কিছু জায়গা নিজেদের দাবি করে দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। এখানে হাজারো শিক্ষার্থী কোরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মাদ্রাসার শিক্ষক জমির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন,আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। দখলদার চক্র যদি তাদের অপচেষ্টা চালিয়ে যায়, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবো।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরান নামে এক শিক্ষার্থী জানায়,আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। আমাদের পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক এবং মাদ্রাসার সম্পত্তি সুরক্ষিত করা হোক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান,দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
উল্লেখ্য, জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সাথে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমি ও সম্পদ নিয়ে এর আগেও কয়েকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এবার পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানববন্ধনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দ্রুত ও কার্যকর সমাধান না এলে এ বিরোধ বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

