পলাশ মন্ডল,সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি:
বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণার পর এখন মূল আলোচনায় উঠে এসেছে নেতৃত্বের প্রশ্ন। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই জনপদকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে যোগ্য অভিভাবক খুঁজছেন নগরবাসী।
এই লক্ষে বগুড়ার রাজনীতিতে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি কে. এম. খায়রুল বাশারকে প্রথম প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান সাধারণ নাগরিক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব হিসেবে কে. এম. খায়রুল বাশার বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক আস্থার নাম।
গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত “বগুড়া সিটি কর্পোরেশন” এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও শুভ উদ্বোধন করেন। এই নতুন যাত্রায় একজন সৎ, দক্ষ এবং ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে অবহেলিত বগুড়ার মানুষ।
কে. এম. খায়রুল বাশারের রাজনৈতিক জীবনের শুরু স্কুল পর্যায় থেকেই। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে অধ্যয়নকালীন তিনি সরাসরি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮৫ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল থেকে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে টানা দুইবার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন।
২০০৬-২০১১ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের সভাপতি এবং বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২২-বর্তমান পর্যন্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করছেন।
জানা যায়, বিগত ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বগুড়ার রাজপথে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন খায়রুল বাশার। আন্দোলন সফল করতে গিয়ে তিনি পুলিশের বুলেটে গুরুতর আহত হন, যার ক্ষতচিহ্ন আজও তিনি শরীরে বহন করছেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে জেল, জুলুম ও হুলিয়া সহ্য করেও তিনি দল ও জনগণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
বগুড়ার সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, খায়রুল বাশার কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘকাল জনসেবা করে আসছেন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে তাকে পাশে পাওয়া যায়।
স্থানীয় অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীরা বলেন, শুরুতে আমরা এমন একজন প্রশাসক চাই যিনি এই শহরের অলিগলি চেনেন এবং জনগণের কষ্ট বোঝেন। ভিপি খায়রুল বাশার সেই কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব যিনি বগুড়াকে একটি আধুনিক ও উন্নত মহানগরী হিসেবে উপহার দিতে পারবেন। এবং দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবেন। বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের এই সন্ধিক্ষণে তৃণমূলের দাবি, দল যেন দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক কে এম খায়রুল বাশারকে যথাযথ মূল্যায়ন করে। যোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই পূরণ হবে বগুড়বাসীর স্বপ্ন।
এ বিষয়ে কে. এম. খায়রুল বাশার বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কখনো কোনো কাজ করিনি। দল যাকে যোগ্য মনে করবে এবং যাকেই দায়িত্ব দেবে আমি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও সম্মান জানাবো।

