খুলনার পানখালী ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত কামাল শেখের মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পচা খাবার সংরক্ষণের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর এই ঘটনার জের ধরে পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন চলমান তীব্র গরমের মধ্যে তৃষ্ণার্ত কয়েকজন সাংবাদিক পানখালী ফেরিঘাট সংলগ্ন কামাল শেখের মিষ্টির দোকানে প্রবেশ করেন। তারা মিষ্টি খাওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতল নিতে গেলে সেগুলোতে পচা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি দোকান মালিক কামাল শেখকে জানালে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে গড়িমসি করেন এবং ফ্রিজ খুলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকরা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিজ দায়িত্বে ফ্রিজ খুলে দেখেন যে, সেখানে দীর্ঘদিনের পুরনো পচা মাংস, মাছ ও মসলা জাতীয় দ্রব্য সংরক্ষিত রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়লে দোকান মালিক কামাল শেখ তার ভুল স্বীকার করেন। তিনি ভবিষ্যতে মিষ্টি ছাড়া অন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য সেখানে সংরক্ষণ করবেন না বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন এবং ঘটনার নিউজ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
ঘটনার সময় বিল পরিশোধের জন্য এক সাংবাদিক ১০০০ টাকার একটি নোট দিলে মালিক প্রথমে বিল নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে তিনি নিজেই সেই টাকা ফেরত দিয়ে আবারও ক্ষমা চেয়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর ২৪ এপ্রিল দুপুরে বিভিন্ন অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালে মূল ঘটনাকে বিকৃত করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা জানান, একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে তাদের পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
সাংবাদিকরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো বিষয় সামনে এলে তা তুলে ধরা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারকারী ব্যক্তি এবং নিউজ পোর্টালগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

