কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বনবিট এলাকায় ভিলেজারদের ব্যক্তিগত বাগানের গাছ কেটে ফেলা ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বনপ্রহরীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও বনবিভাগের কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালেঞ্জি গ্রামে মহেব উল্লা (৭৫) দীর্ঘ কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছেন। বনবিভাগের নিয়ম অনুযায়ী তারা বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি ও ফলজ গাছ লাগিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মহেব উল্লার ছেলে আলী হোসেন জানান, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে আদমপুর বিট কর্মকর্তার নির্দেশে বনপ্রহরী শাহ আলম ও শাহীন আহমেদ তাদের বাড়ির শখের কমলা ও আনারস বাগান থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধ মহেব উল্লা, তার স্ত্রী আলেকজান বিবি (৬০) ও ছেলের স্ত্রী সালমা বেগমকে (৩০) মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে মহেব উল্লা ও তার স্ত্রী কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আলী হোসেনের দাবি, বনবিভাগের বিট কর্মকর্তার কাছে টাকা লেনদেনের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “এর আগেও বাগানের ফসল চাষাবাদের জন্য আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন বিট কর্মকর্তা। গত বুধবার আরও টাকা দাবি করলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করি, যার জের ধরে তারা গাছ কেটেছে ও আমাদের মারধর করেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদমপুর বন বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার যোগদানের পর থেকে মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে এলাকাবাসীকে হয়রানি করছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, ঘটনার উল্টো চিত্র এটি। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বনপ্রহরী শাহীনুর আলমের ওপর হামলা চালিয়েছেন আলী হোসেন ও তার সহযোগীরা। রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, “হামলায় বনপ্রহরী আহত হয়েছেন এবং তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। আলী হোসেনের পরিবার যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ সাজানো ও বানোয়াট। বনপ্রহরী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
প্রীতম বড়ুয়া আরও জানান, বনবিভাগের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

