নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও বিকৃত ছবি পোস্ট করার কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডাকসুর দুই নেতা শাহবাগ থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
জানা গেছে, জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ পোস্টের অভিযোগে মামলা করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগ থানায় যান ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং ডাকসু প্রতিনিধিরা থানা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। থানার ভেতরেই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই হট্টগোলের মধ্যে শাহবাগ থানার ভেতরেই ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক হামলার শিকার হন এবং ডাকসুর আরেক নেতা এবি জুবায়ের থানার ভেতরে আটকা পড়েন।
থানার ভেতরের এই রেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শাহবাগ ও ক্যাম্পাস এলাকায়। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে তথাকথিত ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে শাহবাগে বড় ধরনের জমায়েত করে ছাত্রদল। ঠিক একই সময়ে এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষ রণমুখী অবস্থান নেয় এবং শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও জুবায়ের পুনরায় শাহবাগ থানায় আশ্রয় নেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

