এম এ আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর মৌজায় রাতের আঁধারে অবাধে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে গর্ত করে মাটি তুলে তা ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দ্রুত উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। জমির মালিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে মাটি কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ইসরাফিল ও কালাইচান মাতবরের নেতৃত্বে একটি চক্র বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে এই মাটি কাটার কার্যক্রম।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে বাড়িঘরে হামলার আশঙ্কা থাকে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। কালাইচান মাতবর বলেন, “আমি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই।” অন্যদিকে ইসরাফিলও একই দাবি করেন।
বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেকচান সজিব বলেন, “বারবার বাধা দিয়েও বন্ধ করতে পারিনি।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
ইউপি চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন বলেন, “আমি নিষেধ করেছি। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করব।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, “ফসলি জমির মাটি কাটা হলে উর্বরতা নষ্ট হয় এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন বলেন, “বিষয়টি জেনেছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

