দিনাজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ জন নতুন শিশু রোগী ভর্তি হলেও ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে বেড সংকটে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬০ জন শিশু বিভিন্ন রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও বেশি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে ওষুধ ও খাবারের মান নিয়ে সমস্যা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
দিনাজপুরের আয়েশা বেগম বলেন, “দুই সন্তান তিন দিন ধরে ভর্তি। কিছুটা ভালো হলেও ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিরল থেকে আসা ময়মনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “খাবারের মান খুব খারাপ, ঠিকভাবে খাওয়ার উপযোগী না।”
পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের কয়েকজন রোগীও খাবারের মান ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন।
এ বিষয়ে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রোগীর সংখ্যার ওঠানামার কারণে কখনও চাপ তৈরি হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, প্রতিটি রোগীর জন্য সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। খাবারের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হলেও শতভাগ মান নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব হয় না।
এদিকে অতিরিক্ত রোগীর চাপ, ওষুধ ও খাদ্য সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে হাসপাতালের সার্বিক সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।


