Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

চীনও কি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট?

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১২:২৭ pm ১৯, এপ্রিল ২০২৬
in বিশ্ব
A A
0

১৯৮৫ সালে আমেরিকা জাপানকে শেষ করে দিয়েছিল। একই কৌশল এখন চীনের উপর প্রয়োগ হচ্ছে। প্রশ্ন করতে পারেন চীন তাহলে চুপ করে আছে কেন? কারণ তার মিত্ররা এখন চাপের মুখে আছে। চীনের জ্বালানি সরবরাহকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। তারপরো কেন কোন কিছু হচ্ছে না? উত্তরটা লুকিয়ে আছে ১৯৮৫ সালে।

প্রথমে বুঝতে হবে, তখন কী হয়েছিল? ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে জাপানকে মনে হচ্ছিল অপ্রতিরোধ্য। টয়োটা আমেরিকার গাড়িশিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল। সনি, ক্যানন, প্যানাসনিক ইলেকট্রনিক্স বাজার দখল করে নিয়েছিল। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের মধ্যে ৭টিই ছিল জাপানি। আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছিল ১৫০ বিলিয়ন ডলারে।
এই বিষয়টি কংগ্রেস ক্ষুব্ধ করে।

সিনেটররা বলছিলেন, “জাপানের উপর ৫০% শুল্ক বসিয়ে দাও।” প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের দল সাময়িক সমাধান চাননি। তারা জাপানকে টেনে ধরতে চাননি— চেয়েছিলেন চিরতরে থামিয়ে দিতে। তারা একটা পরিকল্পনা করল। ১৯৮৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কে পাঁচটি দেশ একটি বৈঠক বসল, আমেরিকা, জাপান, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। বৈঠকে জাপানের সামনে রাখা হলো মাত্র একটি বিকল্প। “হয় তাদের মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে, না হয় কংগ্রেস ৫০% শুল্ক চাপিয়ে দেবে। যে কোন একটিকে বেছে নাও।” জাপান মিত্র হিসেবে তাদের শর্ত মেনে নিল।

২৪ মাসে ইয়েনের মান ১০০% বেড়ে গেল। রাতারাতি জাপানি পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল। টয়োটা, সনি, হোন্ডা লোকসান দিতে শুরু করল। রপ্তানি কমল। বেকারত্ব বাড়ল। ব্যাংক অব জাপান আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। রপ্তানি বন্ধ প্রায়, অর্থনীতি সংকুচিত হচ্ছে। তাদের সামনে দু’টি পথ— হয় সুদের হার কমাতে হবে, না হয় অর্থনীতিকে ধসে পড়তে দিতে হবে। তারা ব্যাপকভাবে সুদের হার কমাতে লাগল। ১৯৮৫ সালে ৫ শতাংশ, ১৯৯০ সালে ২.৫ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে, ০.৫% শতাংশ, ২০০০ সালে ০.১% শতাংশ ও ২০১৬ সালে ০.১ শতাংশ (ঋণাত্মক সুদ)।

অর্থনীতি কি বাড়ল? না। কম সুদে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ইয়েন ছাপানো হলো। কিন্তু সেই ছাপানো অর্থ উৎপাদনে গেল না। চলে গেল সম্পদের বুদবুদে (মানে কৃত্রিমভাবে ফুলে ওঠা সম্পদের দাম, যা পড়ে ধসেপড়ার ঝুঁকিতে থাকে)। টোকিওতে জমির মূল্য পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়েও বেশি হয়ে গেল। জাপানের শেয়ারবাজার চার বছরে ১০,০০০ থেকে ৩৮,৯০০-তে পৌঁছাল। ১৯৯০ সালে বুদবুদ ফেটে গেল। শেয়ারবাজার ৮২% পড়ে গেল। ৩৮,৯০০ থেকে ৭,০০০-এ। ১৩ বছরের ধস। কিন্তু সত্যিকারের ধ্বংস এলো এরপর। দাম পড়তে শুরু করল। ১৯৯১ সালে ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, ১৯৯৫ সালে ০ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে -১ শতাংশ (মূল্যসংকোচন), ২০০৯ সালে -২ শতাংশ (গভীর মূল্যসংকোচন)।

মূল্যসংকোচন কেন এত ধ্বংসাত্মক? একবার ভাবুন, আজকে আপনি একটা পণ্য কিনতে চান কিন্তু প্রতি মাসে দাম কমছে। আপনি ভাবেন, অপেক্ষা করি, পরের মাসে আরও সস্তা হবে। পরের মাসে দাম কমে। আপনি ভাবেন, আরেকটু অপেক্ষা করি। সবাই একই কাজ করে। কেউ কেনে না। কোম্পানিও বিক্রি করতে পারে না। মুনাফা নেই। ছাঁটাই শুরু হয়। বেকারত্ব বাড়ে। মানুষ কম খরচ করে। দাম আরও কমে। একটি দুষ্টচক্র, যা ২০ বছর ধরে চললো।
আর তারপর এলো সবচেয়ে ভয়াবহ জিনিস— ক্যারি ট্রেড।

জাপানে সুদের হার তখন ০.১ শতাংশ আর আমেরিকায় ৫ শতাংশ। মানে জাপান থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে বেশি সুদের মুদ্রায় ব্যবস্যা করা।
বিশ্ব কী করল? জাপান থেকে ইয়েন ধার করল। প্রায় বিনামূল্যে। ডলারে রূপান্তর করল। আমেরিকান বন্ডে বিনিয়োগ করল। ৫ শতাংশ রিটার্ন পেল। বছর শেষে ঋণ পরিশোধ করল। পার্থক্যটাই মুনাফা। বিশ্বের সব বড় ফান্ড এটা করল। ৩০ বছর ধরে জাপানের অর্থ বিশ্ব বিনামূল্যে ব্যবহার করল। মূলধন ক্রমাগত বাইরে বেরিয়ে গেল। চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে। জাপান এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

এবার একটু চীনের দিকে তাকানো যাক। চীন আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। জ্বালানি উৎপাদনে তিনগুণ এগিয়ে। উৎপাদন শিল্পে দ্বিগুণ। বিশ্লেষকদের হিসাব বলছে, এভাবে চললে ১০ বছরে চীন হবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। সুতরাং আমেরিকাকে এটা থামাতেই হবে। কিন্তু ১৯৮৫ সালে জাপানের মতো চীনকে কি বৈঠকে বসিয়ে চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব? না। কারণ জাপান ছিল মার্কিনের মিত্র, চীন তা নয়।

সে কারণে তারা কী করছে? প্রথমত, চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করছে। দ্বিতীয়ত, তাদের জ্বালানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করছে। ভেনেজুয়েলা চীনকে দিনে ৮ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করত। মাদুরোকে অপহরণ করা হলো। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ। ইরান দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল বিক্রি করত। যুদ্ধ শুরু হলো। হরমুজ প্রণালীর সংকট চলছে। রাশিয়া আছে নিষেধাজ্ঞার চাপে।

চীন তার ব্যবহৃত তেলের ৭৩ শতাংশ আমদানি করে। এক এক করে জ্বালানির উৎস চেপে ধরা হচ্ছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইরান বোমার মুখে। মিত্ররা দুর্বল হচ্ছে। বাণিজ্যপথ বিঘ্নিত হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে জাপানের উপর যা এক চালে করা হয়েছিল, চীনের উপর তা চার দিক থেকে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে চীন কী করছে? একবার ভাবুন।

আপনি একটি বিনিয়োগ করছেন। সামনে দুটি সম্পদ। প্রথমটির দাম অনেক বেশি। শীর্ষের কাছে। প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত। দ্বিতীয়টির দাম একদম কম। প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিশাল। দেশগুলোও এরকম। প্রতিটি দেশের একটি সম্পৃক্তি বিন্দু আছে। প্রবৃদ্ধির পর্যায় শেষ হলে আসে মন্দা। আমেরিকা, ইউরোপ — সম্পৃক্ততায় পৌঁছানো অর্থনীতি। প্রবৃদ্ধি ধীর। ঋণ বেশি। জনগণ ক্লান্ত।

তাহলে কম দামে বিশাল সম্ভাবনার জায়গা কোথায়? আফ্রিকা। ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা হবে ২৫০ কোটি। বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ মহাদেশ। কাঁচামালে ভরপুর। চীন এটা দেখেছে। আমেরিকা যখন ইরাক ও আফগানিস্তানে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছিল, চীন তখন ৪৯টি আফ্রিকান দেশে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করেছে। রেলপথ বানিয়েছে। বাঁধ দিয়েছে। বন্দর গড়েছে। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

কিন্তু শুধু আফ্রিকা নয়। ইউয়ান ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য দেশেও। হরমুজ প্রণালীতে ইরান ইউয়ানে টোল নিচ্ছে। ব্রিকস প্রসারিত হচ্ছে। বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি হচ্ছে। সোনা কেনা অব্যাহত আছে। আমেরিকা যতবার যুদ্ধ করছে, ততবার একটি করে মিত্র হারাচ্ছে, আর হারানো প্রতিটি মিত্র চীনের দরজায় কড়া নাড়ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন তিনি হরমুজে অবরোধ দিয়ে ইরানের জাহাজ থামাবেন, কিন্তু বাস্তবে এগুলোর প্রায় সবই সরাসরি চীনের দিকে যাচ্ছে। এটি ইরানকে নিয়ে নয়, বরং চীনের জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, “আমরা ইরানকে অর্থ প্রদানকারী প্রতিটি জাহাজ থামাবো,” কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইরানের ৮০–৯০ শতাংশ তেলই চীনে যায়।

আসলে তিনি চীনকেই টার্গেট করছেন। তাঁর কূটকৌশলটি দেখুন, একদিকে তিনি হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের হুমকি দেন, অন্যদিকে চীনকে বলেন আমেরিকান তেল কিনতে। এটা কোনো ভনিতা নয়, স্পষ্ট চাপ।
চীন ইরানের তেল ইউয়ানে কেনে, যা ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যদি তারা মার্কিন তেলে যায়, তাহলে আবার ওয়াশিংটনের আর্থিক নিয়ন্ত্রণে ফিরতে হবে—ডলার, সুইফট, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি, সম্পদ জব্দ হওয়ার আশঙ্কা। আসল উদ্দেশ্য তেল বিক্রি নয়, নির্ভরশীলতার রাজনীতি। চীনের হিসেব এতটা সরল নয়, তারা যা করছে সব বুঝে-শুনেই করছে।

এখন প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই কোনো চীনা তেলবাহী জাহাজ থামাবে? কারণ সেটি ঘটলে, বিষয়টি আর ইরান নিয়ে থাকবে না— এটি সরাসরি চীনের সঙ্গে সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। আর যদি না করে, তাহলে বিশ্বে এই হুমকির অসাড়তা দেখবে।

এতে তার মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী সবাই জানবে যুক্তরাষ্ট্রের দম্ভের পরিণতি।
১৯৮৫ সালে জাপান মিত্র ছিল আমেরিকার তাই মেনে নিয়েছিল তাদের অন্যায় শর্ত। এ জন্য তারা ৪০ বছর হারিয়েছে।

২০২৬ সালে চীন মার্কিনের মিত্র নয়। সে শুধু সময়ের অপেক্ষায় আছে। আমেরিকা কি একই কৌশলে ভিন্ন একটি প্রতিদ্বন্দ্বীকে শেষ করতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী বিশ্ব ভূরাজনীতির অনেক কিছু।

ড. মঞ্জুরে খোদা, লেখক-গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Tags: ইরান যুদ্ধচীনবিশেষ নিউজযুক্তরাষ্ট্র
ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • শিক্ষকদের আন্দোলনে ববিতে ক্লাস বন্ধ, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
  • টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীর বস্তা বন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
  • কাপাসিয়ায় গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড
  • বান্দরবানে শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক সমস্যা নিরসনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  • চরম ডিজেল ভোগান্তিতে শার্শার সাধারণ কৃষক

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম