মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরান ইসরায়েলে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো পূর্ণ প্রস্তুতিতে ছিল। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
এরপর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে তার অবস্থান বদলে দেন।
ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে ১০০ শতাংশ চুক্তি সম্পন্ন হয়।
এ অবস্থায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম হস্তান্তর সংক্রান্ত দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিবর্তনশীল অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, নাকি সামরিক প্রস্তুতির জন্য কৌশলগত বিরতি?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং অস্ত্র সরবরাহের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমান অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে নাকি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে পরিস্থিতি গড়াবে—সে প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

