মিজানুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারে গরুর গোশত বিক্রি নিষিদ্ধের ঘটনাটি সংবাদ প্রকাশের পর নতুন মোড় নিয়েছে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় “অদৃশ্য চাপে গরুর গোশত বিক্রি নিষিদ্ধ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং প্রশাসনের নজরে আসে।
এর প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল বিকেলে ডাকনিরপাট বাজারে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বদরুজ্জামান রিশাদ এবং থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ বৈঠকে রাজনৈতিক নেতা,আলেম- ওলামা ও স্থানীয় দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর একটি জুরিবোর্ড গঠন করা হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে না নিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণা ঘিরে উপস্থিত জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকে ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। জুরিবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গরু জবেহের বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া হলেও কোথায় জবাই করা হবে তা নির্ধারণে সময় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি সালিম আব্দুল্লাহ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহযোগিতায় কর্জে হাসানা হিসেবে প্রায় ৯৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে একটি ষাঁড় গরু ক্রয় করেছেন। গরুটি ইতোমধ্যে বাজারে আনা হয়েছে, যা জবেহের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না।
এ বিষয়ে থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, আগামী সোমবার পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রাখা হয়েছে। সেদিন পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে জুরিবোর্ডের সদস্যদের একজন দাবি করেন, গরু জবেহের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুধু স্থান নির্ধারণ বাকি। দুই পক্ষের ভিন্নমুখী বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সম্প্রীতি বজায় রেখে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ডাকনিরপাট বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি মন্দির এবং উত্তর পাশে প্রায় ৩৫০ মিটার দূরে একটি মসজিদ ও কবরস্থান রয়েছে। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।

