সম্প্রতি মিডল ইস্ট আইয়ের একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং প্রখ্যাত আমেরিকান-ইহুদি পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট প্রফেসর নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর (GCC) ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেছেন।
উপস্থাপক যখন তাকে প্রশ্ন করেন যে, ইরান কর্তৃক উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ কি না, তখন ফিঙ্কেলস্টাইন স্পষ্ট ভাষায় একে বৈধ বলে অভিহিত করেন। তিনি তার আইনি ব্যাখ্যার পাশাপাশি এই দেশগুলোর নৈতিক অবস্থানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ফিঙ্কেলস্টাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকটের সময় এই রাষ্ট্রগুলো কার্যত কিছুই করেনি, বরং তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
ফিঙ্কেলস্টাইন সরাসরি উপসাগরীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, গাজার সাধারণ মানুষের আর্তনাদ যখন বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন এই রাষ্ট্রগুলো ছিল নীরব দর্শক। তিনি বিদ্রূপাত্মকভাবে তাদের বলেন, “কাঁদো, আরও বেশি করে কাঁদো! কাঁদতে কাঁদতে নদী ভাসিয়ে দাও!” তার এই মন্তব্যের পেছনে প্রধান কারণ ছিল ইরানের ওপর আমেরিকান-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর বিতর্কিত পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেন, যখন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল, তখন এই রাষ্ট্রগুলো তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তার মতে, তেলের উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনকে আরও সহজতর করে দিয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যারা পশ্চিমা শক্তির স্বার্থ রক্ষায় তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে, তারা চাইলে গাজার নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তেলের উৎপাদন কমিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং তারা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি তৎপরতাকে পরোক্ষভাবে ত্বরান্বিত করেছে। প্রফেসর ফিঙ্কেলস্টাইনের এই বিশ্লেষণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আরব দেশগুলোর সুবিধাবাদী নীতি এবং গাজা ইস্যুতে তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে উন্মোচিত করেছে। তার মতে, এই দেশগুলো এখন যে সংকটের কথা বলছে, তা তাদের নিজেদের কর্মেরই ফল, তাই তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখানোর অবকাশ নেই।

