মুহ. মিজানুর রহমান বাদল, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. রমজান আলী দুর্নীতির মামলায় জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. কে. এম. তোফায়েল হাসান দুই পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জানাগেছে, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে একটি উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। বাকি দুটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও দীর্ঘদিন তিনি অনুপস্থিত থাকায় গত ১ ফেব্রুয়ারি রমজান আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিনি আদালতে শ্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রমজান আলীর আইনজীবী এ. টি. এম. শাহজাহান বলেন, মামলায় তিনি আগে জামিনে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর হয়েছে। আমরা পুনরায় জামিনের আবেদন করব।
দুদকের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান জানান, রমজান আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অনুপস্থিত থাকার কারণেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮-৯৯ সালে মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণ পাশের জায়গা ভরাটের কাজ মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক আমিরুল ইসলাম মট্টুকে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তৎকালীন মেয়র রমজান আলী একই কাজ একাধিকবার বাড়িয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজেসে পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাঁচাবাজারের দক্ষিণ পাশের খাদ ভরাটের কাজেও একইভাবে অনিয়মের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অন্য একটি মামলায়, ২০০৪ সালে পৌরসভার জিপ মেরামতের নামে অগ্রিম হিসেবে এক লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে একই খাতে আরও এক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে তৎকালীন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজলও জড়িত।
এসব ঘটনায় ২০০৭ সালের এপ্রিল ও মে মাসে পৃথকভাবে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এসব মামলায় ইতোমধ্যে চার্জ গঠন করা হয়েছে। মামলাগুলোতে রমজান আলীসহ একাধিক ব্যক্তি আসামি রয়েছেন।

