সত্যজিৎ দাস:
ছেলের হাতে পিতার মৃত্যু,৪ ঘণ্টায় ঘাতককে গ্রেফতার করলো র্যাব-৯ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জঙ্গিবিরোধী অভিযানসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও জেলা পুলিশের যৌথ আভিযানিক দল।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী,ভিকটিম আকল মিয়া (৮৫) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার কালাপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মশিকুর রহমান (২৯) তার ছোট ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উশৃঙ্খল আচরণ করতেন,যা নিয়ে পরিবারে অস্থিরতা চলছিল।
ঘটনার দিন ১৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দুই শিশু কন্যাকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় শিশুরা দাদার কাছে আশ্রয় নিলে আকল মিয়া তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আকল মিয়ার বুকের বাম পাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় আহত ব্যক্তির বড় ছেলে এগিয়ে এলে তাকেও একই অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আকল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অপরজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর ভিকটিমের আরেক ছেলে বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ১৬,ধারা ৩২৬/৩০৭/৩০২ পেনাল কোড ১৮৬০।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল থানার দক্ষিণ মাইজদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৯ এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে অভিযুক্ত মশিকুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

