রংপুর প্রতিনিধি:
বিদেশের মাটিতে নিজ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে উল্টো প্রতারণা ও মানহানিকর অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন সৌদি প্রবাসী উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম ও তার ভাই রায়হান আহমেদ।
একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অব্যাহত হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং এর প্রতিকার চেয়ে রংপুরের আদালত ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মোঃ শরিফুল ইসলাম (দুলাল)-এর মাধ্যমে ০৬ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরের বিভিন্ন সময়, পীরগাছা, কাউনিয়া, মাহিগঞ্জ, মিঠাপুকুরের এলাকার বেকার যুবকদের পারিবারিক অনুরোধ ও মানবিক বিবেচনায় সৌদি আরবে নিয়ে যান রাকিবুল ইসলাম। সেখানে তাকে নিজেদের মালিকানাধীন একটি যৌথ ক্যাটারিং সার্ভিস ব্যবসায় কাজ দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষ সপ্তাহে রাকিবুল ইসলাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দেশে আসার সময় বিশ্বাসের ভিত্তিতে ব্যবসার দায়িত্ব অভিযুক্তদের হাতে দিয়ে আসেন।
মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে গিয়াস উদ্দিন, জোবায়দুল হক ও মজনু মিয়ার যোগসাজশে ব্যবসায়িক অর্থ আত্মসাৎ ও অব্যবস্থাপনা শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাকিবুল ইসলাম সৌদি আরবে ফিরে গিয়ে দেখতে পান ব্যবসায় বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।তাদের এই প্রতারণার কারণে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা যৌথ ব্যবসা থেকে রাকিবুল ইসলামকে সরে আসতে হয়।
আর্থিক ক্ষতি করেই তারা ক্ষ্যান্ত হননি ‘জীবনটা বড় অদ্ভুত’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে থেকে রায়হান মিয়া ও রাকিব ইসলামের সম্পর্কে ক্রমাগত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করে আসছেন। এর ফলে দেশে ও প্রবাসে তাদের পরিবারটি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রায়হান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন, জোবায়দুল হক, মজনু মিয়া,শামীম মিয়া, রাকিব হাসান, রোমান মিয়াসহ তাদের পারিবারের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে এবং অবিলম্বে অপপ্রচার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও মানহানির মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশটি গত ০৮ এপ্রিল প্রেরণ করা হয়েছে।
রংপুর নগরীর বাসিন্দা আব্দুর রহিম, মেকুড়া এলাকার সুমন মিয়া ও ফকিড়া এলাকার হুমায়ুন কবির জানান, আমরা রাকিব ও রায়হান এর মাধ্যমে সৌদিতে এসেছি। দীর্ঘদিন যাবৎ একসাথেই আছি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ইদানীং সৌদিতে বসে আমাদের এলাকার একটি চক্র রাকিব ভাইদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক মিথ্যাচার করছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এদের সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলী আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, মজনু মিয়ার স্ত্রী জানান, আকামা (বসবাসের অনুমতি) করে দিলে এই অপপ্রচার বন্ধ হবে-যা মূলত এক ধরণের ব্ল্যাকমেইল বা চাপ সৃষ্টির নামান্তর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন “বর্তমান সময়ে প্রবাসীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে সাইবার বুলিং বা অপপ্রচারের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার প্রবণতা বাড়ছে। এটি কেবল একটি আইনি অপরাধ নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় এই ধরনের অপপ্রচারের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের উচিত স্ক্রিনশট বা ভিডিও লিংকের মতো ডিজিটাল প্রমাণাদি সংগ্রহ করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা।
প্রসঙ্গত, প্রবাসী উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম ও রায়হান মিয়া, রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানাধীন বড়দরগাহ, ফকিড়া গ্রামের মো. শামসুল হুদার ছেলে।

