যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হওয়াও এই মূল্যবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৪,৮২১.৪৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে জুন মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ০.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৮৪৪.৪০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলার ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের আয়ও সামান্য হ্রাস পেয়েছে।
ওএএনডিএ’র সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হওয়া আশাবাদই মূলত স্বর্ণবাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কাজ করছে। তার ধারণা, দাম ৪,৯০০ ডলার ছাড়ালে তা ৫,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার দিকে যেতে পারে।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ জানানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তেহরান কঠোর অবস্থানে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে উচ্চ সুদের হার পরিস্থিতি স্বর্ণের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও সাম্প্রতিক লেনদেনে বেড়েছে বলে জানা গেছে।

