এম এ আউয়াল আশিক, স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিলেবাসের সাথে বিভিন্ন নামে-বেনামে গাইড বই অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং একই সাথে বাড়ছে কোচিং বাণিজ্য। এতে করে আর্থিক চাপে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়, যা উপজেলা পরিষদের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, সেই প্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের সাথে ‘আদিল গাইড’ নামের একটি গাইড বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই গাইড বইয়ে মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরের বিভিন্ন বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সিলেবাসে উল্লেখ করা হয়েছে কোন বিষয় গাইড বইয়ের কত নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে।
বিশেষ করে ইংরেজি গ্রামার ও বাংলা ব্যাকরণের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি গাইড বই থেকে পাঠদান করানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা এসব গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বেশ কিছু প্রকাশনার গাইড বই স্কুল থেকে বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থী অনুপাতে ভালো ডোনেশন পাওয়া যায় সেটা শিক্ষকরা ভ্রমণ খাতে ব্যয় করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন মনির বলেন,
সিলেবাসে এভাবে পৃষ্ঠা নম্বর সহ এসেছে তা খেয়াল করিনি। এটা ভুল হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, বছরের শুরুতেই ভর্তি ফি, নতুন পোশাক এবং গাইড বই কিনতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীর হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। যা অনেক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা প্রাইভেট বা কোচিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। কোথাও শ্রেণিকক্ষেই কোচিং করানো হয়, আবার কোথাও স্কুলের বাইরে বাসা বা ভাড়া করা কক্ষে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমাদেরকে কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। কোচিং না করলে শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় এবং পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হয়। অনেক সময় ফেল করানো হয়। আর যারা শিক্ষকের কাছে কোচিং করে, তারা দুর্বল ছাত্র হলেও পরীক্ষায় সহজে পাস করে।”
এ বিষয়ে অভিভাবকরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগে স্কুলে ভালোভাবে পাঠদান হতো। তখন শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং করতে হতো না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সরকারি স্কুলে পড়িয়েও অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। যা অনেক সময় প্রাইভেট স্কুলের খরচের কাছাকাছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক সভাপতি রুম্পা ঘোষ বলেন, “আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন। বিদ্যালয়গুলোতে এমন হওয়া ঠিক নয় এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”image0.jpeg

