জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত এ রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং সাবেক উপপরিদর্শক বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। তারা সবাই পলাতক।
এ ছাড়া রায়ে ১০ বছর, ৫ বছর ও ৩ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মোট ২৫ জন আসামিকে। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতারাও রয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন সামনে মানুষ রয়েছে; কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি তার সামনে অমানুষরা দাঁড়িয়ে ছিল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এ মামলায় মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিচার কার্যক্রম শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

