দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এনএসসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বিকেলে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এনএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির প্রাথমিক মেয়াদ হবে তিন মাস।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে আগামী ৯০ দিনের (তিন মাস) মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা এবং নতুন নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
বিসিবির বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এই ১১ সদস্যের কমিটিতে দেশের ক্রীড়া ও আইনি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। সদস্যরা হলেন:
১. তামিম ইকবাল (আহ্বায়ক/প্রধান)
২. রাশনা ইমাম (সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী)
৩. মির্জা ইয়াসির আব্বাস
৪. সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ
৫. ইসরাফিল খসরু
৬. মিনহাজুল আবেদীন নান্নু (সাবেক প্রধান নির্বাচক)
৭. আতহার আলী খান (সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার)
৮. তানজিল চৌধুরী
৯. সালমান ইস্পাহানি
১০. রফিকুল ইসলাম
১১. ফাহিম সিনহা
বিগত কয়েক বছরে বিসিবির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং নানা বিতর্কের জেরে এনএসসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। একজন সক্রিয় বা সদ্য সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তামিম ইকবালের ওপর এই বিশাল দায়িত্ব অর্পণকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
তামিম ইকবালের এই নতুন ইনিংস বিসিবির প্রশাসনিক সংস্কারে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তিন মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে নির্বাচন আয়োজন এবং ক্রিকেট বোর্ডকে বিতর্কমুক্ত করাই হবে নতুন এই অ্যাডহক কমিটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

