মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
সোশ্যাল মিডিয়া এখন তাঁকে নিয়ে মুখর। সুলতানা আলম। ইরা আপা। সুলিভান ভাইদের নানী। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে রোনান ও ডেক্লান সুলিভানের খেলার পেছনে যে একটিমাত্র সুতো, সেটি এই নারীর। আর সেই সুতোর গোড়া রাজবাড়ী সদরের কাজীকান্দায়।
পাকিস্তান আমলে দুইবার গোল্ড মেডেলজয়ী এই কৃতী নারী ১৯৬১ সালে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ায়। পরে কাজ করেছেন জাতিসংঘে। এখন বেশিরভাগ সময় থাকেন বাংলাদেশেই। প্রতি বছর আসেন রাজবাড়ীতে। স্থানীয় নানা অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতাও করেছেন।
সুলিভান ভাইদের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা — কেউই বাংলাদেশি নন। কেবল নানীর রক্তেই মিশে আছে লাল-সবুজের উত্তাপ। একসময় নাতিদের পড়াশোনা ছেড়ে ফুটবলে মন দেওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর। এখন গর্বে ভরে গেছে বুক। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়েও ছুটে গেছেন মালিতে — নাতিদের খেলা দেখতে।
রাজবাড়ী থেকে ফিলাডেলফিয়ার নয় হাজার মাইলও তাঁর শক্তির কাছে হার মেনেছে। নানী দেশ ছেড়েছিলেন, আর তাঁরই নাতিরা ফিরে এল বাংলাদেশের জার্সি গায়ে। কী অদ্ভুত বৈপরীত্য!

