উৎফল বড়ুয়া, সিলেট প্রতিনিধি:
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় পরিচয়, গর্ব, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই চেতনাকে ধারন করে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।
ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের মূল সামরিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এ পরিকল্পনার পরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই সুসংগঠিতভাবে শুরু হয়, যা বিজয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১২টায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা তেলিয়াপাড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এ বৈঠককে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কৌশল নির্ধারণের প্রথম সংগঠিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে ৪ এপ্রিল দিনটি স্থানীয়ভাবে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানটি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি রয়ে গেছে।

